প্রকাশিত:
৭ জানুয়ারী, ২০২৬

রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে কার্যত বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্যসেবায় ভর্তুকি দিয়ে আসছে। তার অভিযোগ, আমেরিকান ভোক্তারা ফরাসি ভোক্তাদের তুলনায় ১৪ গুণ বেশি দামে ওষুধ কিনছেন। এই পরিস্থিতি বদলাতেই তিনি তার তথাকথিত “মোস্ট ফেভার্ড নেশন” (Most Favored Nation) নীতি প্রয়োগ করেছেন বলে দাবি করেন।
ট্রাম্প বলেন, প্রথমে ম্যাক্রোঁ তার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। এরপর তিনি ফ্রান্সকে একটি আল্টিমেটাম দেন—হয় মার্কিন দাবি মেনে নিতে হবে, নয়তো শ্যাম্পেন ও ওয়াইনসহ সব ফরাসি পণ্যের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হবে। ট্রাম্পের দাবি, এই শুল্ক হুমকির পরই ম্যাক্রোঁ নতি স্বীকার করেন।
ট্রাম্প তার বক্তব্যে বলেন, ম্যাক্রোঁ তাকে অনুরোধ করেছিলেন, “ডোনাল্ড, আমাদের মধ্যে একটা চুক্তি হয়েছে। আমি আমার প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম ২০০ শতাংশ বা তার বেশি বাড়াতে চাই। তুমি যা খুশি করো, কিন্তু দয়া করে জনগণকে বলো না।” তিনি আরও দাবি করেন, “প্রতিটি দেশই একই কথা বলেছে।”
ট্রাম্পের মতে, ফ্রান্সের ওপর সম্ভাব্য শুল্ক আরোপের খরচ তার প্রস্তাবিত ওষুধের দাম বাড়ানোর চেয়ে ৪২ গুণ বেশি ব্যয়বহুল হতো। শেষ পর্যন্ত ফ্রান্স প্রতি বড়ির দাম ১০ ডলার থেকে বাড়িয়ে ৩০ ডলার করে, আর একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে ওষুধের দাম কমে যায় বলে তিনি দাবি করেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পর এখনো পর্যন্ত ম্যাক্রোঁ বা ফরাসি সরকার কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও শুল্কের হুমকি দেওয়ার পর গড়ে মাত্র ৩.২ মিনিটের মধ্যেই বিদেশি নেতারা তাদের দেশে ওষুধের দাম চারগুণ বাড়াতে রাজি হয়েছেন।
ট্রাম্প বলেন, “তারা আমাকে বলেছে—আপনি যদি চান, তাহলে আমরা সম্মানের সাথেই আমাদের ওষুধের দাম চারগুণ বাড়াব।” এই মন্তব্যগুলো আসে ট্রাম্পের মোস্ট ফেভার্ড নেশন নীতি কার্যকরের সময়, যার লক্ষ্য হলো উন্নত দেশগুলোতে ওষুধ প্রস্তুতকারকদের সর্বনিম্ন দামের সাথে মেডিকেয়ার-এর অর্থপ্রদান যুক্ত করে যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানো।
ট্রাম্প দাবি করেছেন, নতুন নীতির আওতায় প্রেসক্রিপশন ওষুধের দামে ৪০০, ৫০০ এমনকি ৬০০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস আনা হয়েছে। তিনি জানান, জানুয়ারি থেকে কমানো দামের ওষুধ পাওয়া যাবে একটি নতুন ওয়েবসাইট TrumpRx.gov-এর মাধ্যমে।